ডিপসিক এআই ডাউনলোড ও ব্যবহারের নিয়ম – Easy way to DeepSeek AI Download: সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে আলোচিত এআই প্রযুক্তির নাম ডিপসিক এআই। টেক বিশ্লেষকরা বলছেন এটি চ্যাটজিপিটি ও জেমিনি এবং গ্রোক এর মত প্রযুক্তিকেও চ্যালেঞ্জ করবে। ডিপসিক এআই ডাউনলোড ও ব্যবহারের নিয়ম জানাবো এই আয়োজনে।
অনেকেই বলছেন, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সে চ্যাটজিপিটিকেও হয়তোবা এই ডিপ সিক পেছনে ফেলে দেবে। কেননা, এটা লঞ্চ হওয়ার পর থেকে এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে যে আসলেই এটা আলোচনায় আসার অনেক বড় একটা কারণ। আপনি ইতমধ্যেই ডিপসিক বনাম চ্যাটজিপিটি সম্পর্কে জেনে গেছেন।
ডিপসিক এআই ডাউনলোড
আলোচনাতো শুনলেন কিন্তু এটা ব্যবহার করবেন কিভাবে? আজকের এই আর্টিকেল এর মাধ্যমে আপনাদের সাথে শেয়ার করতে যাচ্ছি, সেটাই—আপনি কিভাবে আপনার মোবাইল ফোন থেকে এই ডিপসিক এআই ডাউনলোড করবেন বা এআই জেনারেটর চ্যাটবট যেটা রয়েছে, বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স যেটা রয়েছে, এটা কিভাবে ব্যবহার করবেন।
ধাপ-১: প্লে-স্টোর বা অ্যাপ স্টোরে DeepSeek AI সার্চ
আপনার ফোনটি আইফোন হলে অ্যাপস্টোর আর এন্ড্রয়েড হলে প্লেস্টোর যেতে হবে। এবং সেখানে DeepSeek AI লিখে সার্চ করুন। নিচের ছবিরমত অ্যাপটি চলে আসবে।

সো, আমরা সরাসরি চলে যাচ্ছি অ্যাপ স্টোরে। আপনার যদি প্লে স্টোর থাকে বা অ্যান্ড্রয়েড ফোন ইউজার হয়ে থাকেন, তাহলে সেখানে চলে যাবেন, গিয়ে জাস্ট লিখে ফেলবেন “ডিপ সিক”। ঠিক আছে?
ধাপ-৩: ডিপসিক এআই ইন্সটল
সো, “ডিপসিক” লেখার পরে দেখতে পাচ্ছেন যে উপরে চলে এসেছে “ডিপসিক এআই অ্যাসিস্ট্যান্ট“। ঠিক আছে? তো এটাকে আমরা এখান থেকে অ্যাপল অ্যাপ স্টোর হলে ডিপসিক এআই ডাউনলোড করতে “গেট” দিবো।
আর গুগল প্লে-স্টোর হলে, “ইন্সটল” দিবেন, অথবা আপনি অ্যান্ড্রয়েড থেকে ইনস্টল করবেন। ইনস্টল করার জন্য হয়তোবা আপনার কিছু সময় লাগতে পারে।

অলরেডি দেখতে পাচ্ছেন, এটা কিন্তু ফোর-স্টার আপ হয়ে গেছে। অ্যাপলের যে আইওএস অ্যাপ্লিকেশন বা অ্যাপ স্টোর রয়েছে, সেখানে আর প্লে স্টোরে এটা ডেফিনেটলি অলরেডি মনে হয় ফাইভ-স্টার হয়ে গেছে।
অনেকেই মনে করছেন, “ডিপসিক” অলরেডি অনেক বেশি জনপ্রিয়তা পেয়ে গেছে মানে অনেকবার ডিপসিক এআই ডাউনলোড হয়ে গেছে এবং হয়তোবা এটা চ্যাটজিপিটিকে উপরে যেতে পারে বা অনেক উপরে উঠে যেতে পারে।
সো, আপনার কাছে কি মনে হয়? এরা কি চ্যাটজিপিটির চাইতেও অনেক উপরে যেতে পারবে? যেহেতু চাইনিজ জিনিস, কারণ এর আগে আমরা দেখেছি যে টিকটক এসে কিন্তু ইউটিউব এবং ফেসবুকের জনপ্রিয়তা অনেকটা ভারসাম্যহীন করে দিয়েছিল। যার কারণে, টিকটকের অডিয়েন্স অনেক বেশি হয়ে যাওয়াতে আমরা দেখেছি টিকটকের জনপ্রিয়তা কিভাবে হুরহুর করে পেয়েছে।
সো, আপনার কাছে কি মনে হয় এই ডিপসিক এআই ডাউনলোড অনেক বেশি হওয়ায় আসলে চ্যাটজিপিটির জনপ্রিয়তা কমিয়ে দিতে পারে? অনেকেই বলছেন DeepSeek Ai কারনে ChatGPT এর দিন শেষ! কিন্তু অলরেডি বিশ্বের অনেক বড় বড় সফটওয়্যার কোম্পানির সাথে এটি ইন্টিগ্রেটেড হয়ে গেছে। যেমন, অ্যাপলে রয়েছে, অ্যান্ড্রয়েডে রয়েছে, গুগলে রয়েছে, তারপর আরো নানান ওয়েবসাইটে রয়েছে।
এআই ইন্টারনেটের যত প্রকার সফটওয়্যার আছে, সেখানে রয়েছে। এমনকি ইউটিউবেও এখন চ্যাটজিপিটির যে ওপেনএআই প্ল্যাটফর্ম আছে, সেটা ব্যবহার করছে।
সো, আপনার কাছে কি মনে হয় এটা পাল্টে যেতে পারে অথবা এই জায়গা কি দখল করে নিতে পারে “ডিপ সিক”?
ডিপসিক এআই ব্যবহার

ওকে, ইতমধ্যেই আমাদের “ডিপ সিক এআই অ্যাসিস্ট্যান্ট” ইনস্টল হয়ে গেছে। তো, আমরা এখান থেকে অন করবো “ডিপসিক”-এ গিয়ে।
ধাপ-১: DeepSeek অ্যাপ চালু করণ
ফোনে ডিপসিক এআই সফলভাবে ইন্সটল করার পর অ্যাপ ড্রয়ার থেকে সফটওয়্যারটি খুঁজে নিতে হবে। হোম পেইজ বা অ্যাপ তালিকায় পেয়ে যাবেন। চালু করে ফেলুন।
চালু হওয়ার পর দেখুন, এখানে লেখা রয়েছে “ওয়েলকাম টু ডিপ সিক”। এখানে আমরা এক রিভিউ দিবো। একাউন্ট না থাকলে সাইন ইন পেইজ দেখা যাবে।
ধাপ-২: নতুন একাউন্ট খোলা
ডিপসিক এআই-তে ফোন নাম্বার অথবা ইমেইল অ্যাড্রেস দিয়ে একাউন্ট তৈরি করতে পারেন। তো, আমরা এখান থেকে ইমেইল দিয়ে অ্যাকাউন্ট তৈরি করছি।
মোবাইল নম্বর দিয়ে একাউন্ট করতে আপনার ব্যবহার করা ফোন নাম্বার দিন আর ইমেইল দিয়ে একাউন্ট করতে নিজের ইমেইল দিয়ে দিন। চাইলে গুগল একাউন্ট দিয়ে সরাসরি সাইনআপ করতে পারবেন।
আমাদের ইমেইল অলরেডি লগইন করা আছে, এখান থেকে আমরা “কন্টিনিউ” তে যাব এবং এখানে এসে আমাদের যে কোনো একটা ইমেইল অ্যাড্রেস আমরা সেট করে দিব।
আপনি জাস্ট ইমেইল থেকে এটাকে সরাসরি “কন্টিনিউ” তে এসে অ্যাড করে নিতে পারবেন। সো, দেখতেই পাচ্ছেন যে আমাদের ইমেইল থেকে কিন্তু অলরেডি আমরা একাউন্ট তৈরি করে ফেলেছি। তো, ইন্টারফেসটা অনেকটা চ্যাটজিপিটির মতই আমরা দেখতে পাচ্ছি।
ধাপ-৩: ডিপসিক দিয়ে কনটেন্ট জেনারেট বা তথ্য নেওয়া
চ্যাটজিপিটির ইন্টারফেস, আমি আপনাদেরকে স্ক্রিনে দেখাচ্ছি। সো, দুইটা প্রায় কাছাকাছি। তো, এখানে আমরা উপরে দেখতে পাচ্ছি প্লাস আইকন “অ্যাপ্লাই এ নিউ চ্যাট”। এখান থেকে আপনারা নতুন চ্যাট এড করতে পারবেন। আর এখানে দেখতে পাচ্ছি “ম্যাসেজ ডিপসিক”।
এটার মাধ্যমে আপনি যেকোনো কমান্ড দিতে পারবেন অথবা তাকে ম্যাসেজ করতে পারবেন। আর এখান থেকে “ডিপ আর ওয়ান“—এটা সম্ভবত কোন ভার্সন। আর এখান থেকে সার্চের যে জায়গাটা আছে, এটা হচ্ছে ওয়েবসাইটের জায়গা।
আমরা থ্রি-ডট আইকন থেকে আমাদের যে চ্যাট লিস্ট আছে, সেটা এখানে দেখতে পারবো। এখন আমি তাকে একটা প্রম্পট দিব। ওকে, আমি তাকে একটা প্রম্পট দিচ্ছি—”রাইট সাম ইউটিউব ভিডিও আইডিয়াস পার্টিকুলারলি ফর বাংলাদেশ অডিয়েন্স”।
এইটা আমি একটা প্রম্পট তাকে দিচ্ছি, দেখি। হেয়ার ইট ইজ! আমি ইউটিউব ভিডিও আইডিয়া পেয়ে গেছি। যেমন, “টপ ফাইভ বাজেট স্মার্টফোন ইন বাংলাদেশ ফর ২০২৫”, “হাউ টু বাই টেক প্রোডাক্টস অনলাইন ইন বাংলাদেশ”, “সেফটি বেস্ট ইন্টারনেট প্যাকেজ ইন বাংলাদেশ—হুইচ ওয়ান শুড ইউ চুজ”, “হাউ টু আর্ন মানি অনলাইন ইন বাংলাদেশ ইউজিং টেক স্কিল”।
যেগুলো নিয়ে আমি কিন্তু অলরেডি ভিডিও তৈরি করতে পারি। এবং “স্টেপ বাই স্টেপ গাইড টু বিল্ডিং এ বাজেট গেমিং পিসি উইথ লোকালি অ্যাভেইলেবল কম্পোনেন্টস”। তো, এই আইডিয়াগুলো আমি এখানে দেখছি। ঠিক আছে, তো আমি তাকে আরেকটা প্রম্পট দিব—”টপ ফাইভ বাজেট স্মার্টফোনস ইন বাংলাদেশ”।
এটার একটা স্ক্রিপ্ট লিখতে বলবো। ওকে, আমি তাকে আরেকটা প্রম্পট দিয়েছি যে আমার জন্য একটা স্ক্রিপ্ট লিখুন। ঠিক আছে, তো এখানে দেখতে পাচ্ছেন যে, সে আমাকে স্ক্রিপ্ট লিখে দিচ্ছে।
যেমন, এখানে ইন্ট্রো দিয়েছে—”হোস্ট: আসসালামু আলাইকুম বাংলাদেশ! ওয়েলকাম ব্যাক টু এক্স…”। তো, এখানে দেখতে পাচ্ছেন “হোস্ট”, “ওয়াইস ওভার” বা অন্যান্য যা যা রয়েছে, সবকিছু এখানে দিয়েছে। তো, আমি যদি তাকে এই ফর্মটা অফ করে বলি “বাংলা”, দেখি সে কি দেয়।
দেখতে পাচ্ছেন, সে কিন্তু বাংলাতেও আমাকে স্ক্রিপ্ট লিখে দিচ্ছে। সো, আশা করছি আপনারা বুঝতেই পেরেছেন যে চ্যাটজিপিটি বা যেভাবে আমরা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের এক মহাসমুদ্রে পা রেখেছিলাম চ্যাটজিপিটির মাধ্যমে, এটা হচ্ছে সেই সমুদ্রের আরেকটা ভার্সন বলা যায় বা আরেকটা মাধ্যম বলা যায়—ডিপসিক।
সো, ডিপসিক কিভাবে ব্যবহার করবেন, সেটা আপনাদেরকে দেখিয়েছি। সো, আপনি এখান থেকে যদি আবার নতুন কোন চ্যাট এড করতে চান, তাহলে এখান থেকে “নিউ চ্যাট” এ যাবেন।
এখানে রাখবেন প্লিজ! সাজেস্ট সাম ভিজিটেড প্লেস ইন ঢাকা। ওকে, দেখতে পাচ্ছেন এখানে লালবাগ ফোর্ট, আহসান মঞ্জিল, ঢাকা ইউনিভার্সিটি এবং কার্জন হল, ন্যাশনাল পার্লামেন্ট, বাংলাদেশ ন্যাশনাল মিউজিয়াম, ঢাকার শ্রীশ্রী ঢাকেশ্বরী মন্দির, লিবারেশন ওয়ার মিউজিয়াম, সদরঘাট রিভারপোর্ট!
এরকম অনেক জায়গা আছে যেগুলো আমাকে সাজেস্ট করেছে। সো, এটা খুবই দুর্দান্ত আমার কাছে মনে হয়েছে। এটা খুব দ্রুতই প্রম্পটের রিপ্লাই দিচ্ছিলো বা উত্তর করছিল, যেটা মনে হয়েছে যে, প্রায় আমি চ্যাটজিপিটি ইউজ করছি!
সো, এখন আসলে বলা যায় না যে চ্যাটজিপিটির চাইতে ডেফিনেটলি অনেক ভালো বা এগিয়ে আছে। কারণ, যেহেতু সেটা অনেকদিন যাবৎ মার্কেটে আছে, মানুষের জন্য অনেক সহজ এবং সহজলভ্য হয়ে গেছে।
তবে একটা বিষয় রয়েছে, যদি এটার যে সাবস্ক্রিপশন বেস আছে, সেটার তুলনামূলকভাবে চ্যাটজিপিটির চাইতে মাসিক বেসিসে এবং বাৎসরিক বেসিসে কমিয়ে আনে, তাহলে হয়তোবা এটার ব্যবহার মানুষের কাছে আরও বেশি জনপ্রিয় হয়ে উঠতে পারে এবং এটার যে সহজলভ্যতা, সেটা মার্কেটে বেড়ে যেতে পারে।
সো ডিপসিক এআই ডাউনলোড নিয়ে আপনার কাছে কি মনে হয়? অবশ্যই কমেন্ট করে জানাতে ভুলবেন না। দেখা হচ্ছে পরবর্তী কোনো ভিডিওতে এরকম ট্রেন্ডি কোনো টপিক নিয়ে। সে পর্যন্ত সবাই ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।
Comments ১